নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারস্হ তোফায়েল এন্ড সন্স দোকানে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রতিবাদ করায় দুইজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। ১ এপ্রিল বুধবার বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকার ‘মোরগ হাঁটা’ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় আহত দুই নেতা হলেন, দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক ইমন এবং উত্তর হামছাদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-আমীন হোসেন রুদ্র। তাঁরা বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একাধিক সূত্র জানা গেছে, দুপুরে ইমন ওই এলাকার তোফায়েল আহমেদের দোকানে পেট্রল কিনতে যান। সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ১১৬ টাকা হলেও দোকানদার তাঁর কাছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তোফায়েলের ছেলে জিহাদ ও তাঁর সহযোগীরা ইমনকে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে ইমনকে উদ্ধার করতে গেলে রুদ্রকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এসময় তাঁদের দুটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এমদাদুল হক ইমন বলেন, অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাওয়ায় তারা আমার ওপর চড়াও হয়। আমাকে বাঁচাতে রুদ্র এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা (পশ্চিম) ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “তেলের দাম নিয়ে কারসাজির প্রতিবাদ করায় আমাদের নেতাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন “অভিযুক্ত” ব্যবসায়ীর ছেলে জিহাদ। তিনি বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করছি। ওই যুবক এসে দোকানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। উত্তেজিত জনতা তাকে কিছু করেছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।
স্হানীয় দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় পরিষদে একটি বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে এক যুবককে উদ্ধার করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। কেউ লিখিত অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন