মিজানুর শামীমঃ
"চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ অপরাধীদের ভয় পায় আর নিরপরাধীদের ফাঁসিয়ে দেয়" লিখে লক্ষ্মীপুরে এক বিএনপি নেতার এমন ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহাবুব খোকন ৩০ মার্চ সোমবার ভোর পাঁচটায় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এমন পোস্ট দেয়ার পরে এ নিয়ে নেটিজনরা পুলিশ সম্পর্কে নানানরকম নেতিবাচক মন্তব্য করে চলেছেন।
এস এম আওলাদ হোসেন নামে একজন লিখেছেন, পোদ্দার বাজার পুলিশ ক্যাম্প- যেখানে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাটানোর জন্য দেয়া হয়েছে।
এমডি সাইফুল্লাহ শরীফ লিখেছেন, পুলিশের ভিতরে এখনো আওয়ামী লীগের আমল ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমডি শোহেল হাওলাদার লিখেছেন, আমার এলাকার একটা অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় থানায় যাই, সেখানে গিয়ে অনেকটাই অনুভব করি থানার ওসি এবং সেকেন্ড অফিসার আওয়ামী লীগের গুন্ডা হিসেবে অতীতে কাজ করেছিল। তাদের কথাবার্তা এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারী পুলিশদের মতই। এমপি মহোদয়ের চাইলেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। আইন শৃঙ্খলা ভালো করতে এলাকার পরিবেশ ভালো করতে ভালো প্রশাসনিক লোকের বিকল্প থানায় নাই বলেই বিশ্বাস করি। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এই ব্যাপারে যথাযথ নজর যাতে দেওয়া হয়।
এমডি হারুনর রশীদ লিখেছেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
শাহাদাত হোসেন শরীফ লিখেছেন, অথচ এই পুলিশকে ৫ ই আগস্ট রাত জেগে মানুষ পাহাড়া দিয়েছে, বিগত দিনে স্বৈরাচারের দালালি করার পরেও বর্তমানে তাদের গ্রহন করেছে।
এমডি সেলিম লিখেছেন, টাকার খেলা চলে, অপরাধী ধরলে ওদের ইনকাম কমে যাবে।
মুন্না আজাদ লিখেছেন, এই যদি হয় অবস্থা তাহলে এতো বড় বড় নেতা আর তাদের এতো ক্ষমতা দল ও জনগণের কি কাজে আসে? আর মানুষও বিএনপির জন্য কেন ত্যাগ স্বীকার করবে? ভোটও কেন দিবে।
গিয়াস উদ্দিন মারুফ লিখেছেন, মাহবুব ভাই ভালো কাজ না করলে আপনারা উপরে জানান, বদনাম হবে এটা সহজভাবে নিবেন না প্লিজ।
জাকির হোসেন লিখেছেন, পুলিশের এখন কোনো ধান্দাবাজি চলে না তারা মাঠে কাজ করে না।
এমডি কামাল হোসেন লিখেছেন, এটি বাংলাদেশের পুলিশের ধর্ম।
শাহজাহান হোসেন লিখেছেন, দলের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জন্য পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না, ওই পুলিশকে থানায় বিভিন্ন রকম জেরার মুখে পড়তে হয়।
এইস. তাকওয়া এম আইডি থেকে মন্তব্য করেছেন, বশিকপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড কাশীপুরে মাদকের আখড়া। মাদক সেবনকারী মাদক ক্রয় -বিক্রয়ের হাট। মাদকের এজেন্ট প্রতিটি ঘরে ঘরে। এগুলো দেখার কেউ নাই। আমি মাননীয় সংসদ সদস্য হস্তক্ষেপ কামনা করি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের নিকট এ বিষয়ে মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। জানার পরে এ বিষয়ে পরে বক্তব্য দিবেন।
জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেকের নিকট এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ নানান ধরনের কথা লিখেন। এডভোকেট সাহেব কেন ফেসবুক এগুলো লিখেছেন, উনার সাথে আমি আগে কথা বলবো তারপরে এবিষয়ে আপনাকে জানাবো।