মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোরিকশা চালক সোহাগ হোসেন (২৭) হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস পর চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর এলাকা থেকে এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি মো. শাহীন (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ (নোয়াখালী) এবং সিপিসি-১ (নারায়ণগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাহীন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার রাখালিয়া এলাকার মো. আবুল কাশেমের ছেলে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন চলাকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহাগ হোসেন। তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ওইদিন রাত ১১টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং এরপর তিনি নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রায়পুর থানার সোনাপুর ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে বালুর নিচে চাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে মাথায় রক্তাক্ত আঘাত এবং গলায় হুডির ফিতা দিয়ে ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি শুরুতে সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় আসামিদের শনাক্ত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পরে র্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে অবশেষে শাহীনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গণকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় (নারায়ণগঞ্জ সদর থানা হয়ে রায়পুর থানা) হস্তান্তর করা হয়েছে।